দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৪৭ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। পেন্টাগনের এমন এক হিসাবের তথ্য পেয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। গত জুলাইয়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের দেওয়া হিসাবের তুলনায় বর্তমান ব্যয় ২৫ শতাংশেরও বেশি।
পেন্টাগনের এই হিসাব প্রকাশ্যে জানানো হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়ে রয়টার্স যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
ইরান যুদ্ধে ব্যয় বাড়ার এ তথ্য এমন সময়ে সামনে এল, যখন আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অজনপ্রিয় এ সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে চাপে রয়েছে রিপাবলিকানরা। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আগামী দুই বছরের জন্য কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে।
যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রতি সমর্থন কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসমর্থন। বর্তমানে কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টির।
পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়ের পাশাপাশি ব্যবহৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ প্রতিস্থাপনে ২৯ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রয়োজন হবে। এ ছাড়া সামরিক সরঞ্জাম এবং যুদ্ধবিমানের মতো বিভিন্ন সামরিক প্ল্যাটফর্মের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যয় হতে পারে আরও ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। যুদ্ধ চলাকালে বহু ড্রোনও হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী।
গত ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেন ট্রাম্প। শুরুতে তিনি ধারণা দিয়েছিলেন, অল্প সময়ের মধ্যেই সংঘাতের অবসান হবে। মার্কিন কৌশলের প্রথম ধাপে ইরানের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করতে ব্যয়বহুল ও অত্যাধুনিক নির্ভুল নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল। এরপর তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল অস্ত্র, যেমন আকাশ থেকে নিক্ষেপযোগ্য জেডিএএম বোমা ব্যবহারের কথা ছিল।
তবে এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতির সুযোগে ইরান ভূগর্ভস্থ অস্ত্রের গুদামগুলো থেকে সরঞ্জাম উদ্ধারের সময় পায়। এর ফলে দেশটির কিছু প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আবারও ব্যবহারের উপযোগী হয়ে ওঠে।
এরপর ইরানের তেল রপ্তানি থেকে আয় বন্ধ করতে দেশটির ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেন ট্রাম্প। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর আবারও সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, নির্দেশ দেওয়া হলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন।
পেন্টাগনের সর্বশেষ হিসাবের সঙ্গে গত জুলাইয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দেওয়া হিসাবেরও পার্থক্য রয়েছে। সে সময় তিনি ইরান যুদ্ধে ব্যয় ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বলে জানিয়েছিলেন।
যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয়ের মধ্যে বিমান অভিযান থেকে শুরু করে সাইবার সহায়তার মতো বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো মেরামতে সম্ভাব্য বিপুল ব্যয়ের বিষয়টি পেন্টাগনের হিসাবগুলোতে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়নি। ফলে যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় আরও বাড়তে পারে।
এমএস/